সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রশ্ন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভগবান, তুমি যুগে যুগে দূত পাঠায়েছ বারে বারে
দয়াহীন সংসারে—
তারা বলে গেল ‘ক্ষমা করো সবে’, বলে গেল ‘ভালোবাসো—
অন্তর হতে বিদ্বেষবিষ নাশো’।
বরণীয় তারা, স্মরণীয় তারা, তবুও বাহির-দ্বারে
আজি দুর্দিনে ফিরানু তাদের ব্যর্থ নমস্কারে।
আমি যে দেখেছি, গোপন হিংসা কপট রাত্রি-ছায়ে
হেনেছে নিঃসহায়ে।
আমি যে দেখেছি, প্রতিকারহীন শক্তের অপরাধে
বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।
আমি যে দেখি, তরুণ বালক উন্মাদ হয়ে ছুটে
কী যন্ত্রণায় মরেছে পাথরে নিষ্ফল মাথা কুটে।
কণ্ঠ আমার রুদ্ধ আজিকে, বাঁশি সংগীতহারা,
অমাবস্যার কারা
লুপ্ত করেছে আমার ভুবন দুঃস্বপনের তলে;
তাই তো তোমায় শুধাই অশ্রুজলে—
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কাশফুলের কাব্য - নির্মলেন্দু গুণ

ভেবেছিলাম প্রথম যেদিন ফুটবে তোমায় দেখব , তোমার পুষ্প বনের গাঁথা মনের মত লেখব । তখন কালো কাজল মেঘ তো ব্যস্ত ছিল ছুটতে , ভেবেছিলাম আরো ক ' দিন যাবে তোমার ফুটতে । সবে তো এই বর্ষা গেল শরত এলো মাত্র , এরই মধ্যে শুভ্র কাশে ভরলো তোমার গাত্র । ক্ষেতের আলে নদীর কুলে পুকুরের ওই পাড়টায় , হঠাৎ দেখি কাশ ফুটেছে বাঁশ বনের ওই ধারটায় । আকাশ থাকে মুখ নামিয়ে মাটির দিকে নুয়ে , দেখি ভোরের বাতাসে কাশ দুলছে মাটি ছুঁয়ে । কিন্তু কখন ফুটেছে তা কেউ পারে না বলতে , সবাই শুধু থমকে দাঁড়ায় গাঁয়ের পথে চলতে । উচ্চ দোলা পাখির মত কাশ বনে এক কণ্বে , তুলছে কাশের ময়ূর চূড়া কালো খোঁপার জন্যে । শরত রানী যেন কাশের বোরখা খানি খুলে , কাশ বনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে । প্রথম কবে ফুটেছে কাশ সেই শুধুরা জানে , তাইতো সেটা সবার আগে খোঁপায় বেঁধে আনে । ইচ্ছে করে ডেকে বলি , ওগো কাশের মেয়ে - " আজকে আমার চোখ জুড়ালো তোমার দেখা পেয়ে তোমার হাতে বন্ধী আমার ভালবাসার ক...

দুঃসময় – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে , সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া , যদিও সঙ্গী নাহি অনন্ত অম্বরে , যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া , মহা - আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে , দিক্ - দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা — তবু বিহঙ্গ , ওরে বিহঙ্গ মোর , এখনি , অন্ধ , বন্ধ কোরো না পাখা । এ নহে মুখর বনমর্মরগুঞ্জিত , এ যে অজাগর - গরজে সাগর ফুলিছে ; এ নহে কুঞ্জ কুন্দকুসুমরঞ্জিত , ফেনহিল্লোল কলকল্লোলে দুলিছে। কোথা রে সে তীর ফুলপল্লবপুঞ্জিত , কোথা রে সে নীড় , কোথা আশ্রয়শাখা — তবু বিহঙ্গ , ওরে বিহঙ্গ মোর , এখনি , অন্ধ , বন্ধ কোরো না পাখা । এখনো সমুখে রয়েছে সুচির শর্বরী , ঘুমায় অরুণ সুদূর অস্ত - অচলে ; বিশ্বজগত্ নিশ্বাসবায়ু সম্বরি স্তব্ধ আসনে প্রহর গনিছে বিরলে ; সবে দেখা দিল অকূল তিমির সন্তরি দূর দিগন্তে ক্ষীণ শশাঙ্ক বাঁকা — ওরে বিহঙ্গ , ওরে বিহঙ্গ মোর , এখনি , অন্ধ , বন্ধ কোরো না পাখা । ঊর্ধ্ব আকাশে তারাগুলি মেলি অঙ্গুলি ইঙ্গিত করি তোমা - পানে আছে চাহিয়া ; নিম্নে গভীর অধীর মরণ উচ্ছলি শত তরঙ্গে তোমা -...

হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হে মোর চিত্ত , পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে। হেথায় দাঁড়ায়ে দু বাহু বাড়ায়ে নমি নরদেবতারে — উদার ছন্দে , পরমানন্দে বন্দন করি তাঁরে। ধ্যানগম্ভীর এই - যে ভূধর , নদী - জপমালা - ধৃত প্রান্তর , হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র ধরিত্রীরে — এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে ॥ কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে কত মানুষের ধারা দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে , সমুদ্রে হল হারা। হেথায় আর্য , হেথা অনার্য , হেথায় দ্রাবিড় চীন — শক - হুন - দল পাঠান - মোগল এক দেহে হল লীন। পশ্চিমে আজি খুলিয়াছে দ্বার , সেথা হতে সবে আনে উপহার , দিবে আর নিবে , মিলাবে মিলিবে , যাবে না ফিরে — এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে ॥ এসো হে আর্য , এসো অনার্য , হিন্দু - মুসলমান। এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ , এসো এসো খৃস্টান। এসো ব্রাহ্মণ , শুচি করি মন ধরো হাত সবাকার। এসো হে পতিত , হোক অপনীত সব অপমানভার। মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা , মঙ্গলঘট হয় নি যে ভরা সবার - পরশে - পবিত্র - করা তীর্থনীরে — আজি ভারতের মহামানবের সাগরতীরে...